- ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই–সংক্রান্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ চ্যানেল চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর শুক্রবার হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে ইরানের স্থবির যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে চলতি বছর আরও দুই দফা বৈঠকের বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছেন। নভেম্বর চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন এবং ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে তাদের আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এআই-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি ‘দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটনে বৈঠকটি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হলেও বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি কমই এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার। তাঁর ভাষ্য, বৈঠকে আনুষ্ঠানিকতা ও আড়ম্বরের উপস্থিতি ছিল বেশি, অগ্রগতি ছিল তুলনামূলক কম।
তবে দুই দেশ বাণিজ্যসংক্রান্ত বিদ্যমান সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নভেম্বরের পরিবর্তে বাণিজ্যবিরতির নতুন সময়সীমা জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে আরও কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ পায়।
বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে শি দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের পরিবর্তে সুস্থ প্রতিযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। তাই মানবকল্যাণে এ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সক্ষমতার পাশাপাশি দায়িত্বও রয়েছে। তিনি এমন প্রতিযোগিতার আহ্বান জানান, যেখানে একে অপরকে হারানোর বদলে উভয় পক্ষ নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করবে।
বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, শি জিনপিং ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যু সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত এক কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করবে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের অ-সংবেদনশীল পণ্যে তুলনামূলক অনুকূল শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সফরকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের জন্য আয়োজন করা হয় রাষ্ট্রীয় ভোজ। ছিল সামরিক কুচকাওয়াজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন। সেখানে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধানের মূল নথি দেখেন। এ সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫০ বছরের ইতিহাসের বিপরীতে চীনের প্রায় ছয় হাজার বছরের ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা পাঠানোর বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
আগামী নভেম্বর চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিতব্য এপেক সম্মেলনের ফাঁকে আবারও মুখোমুখি হওয়ার কথা ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের। এরপর ডিসেম্বর মাসে মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনেও তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন বৈঠকে বড় কোনো চুক্তির ঘোষণা না এলেও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তটিই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল। আল জাজিরার অ্যালান ফিশারের ভাষায়, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চালু রাখার বিষয়টিই হয়তো এই বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন।