Friday, September 25, 2026

বিকাশ-রবিসহ চার ডিজিটাল ব্যাংকে প্রাথমিক অনুমোদন


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পরিসর বাড়াতে চারটি নতুন ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে নতুন করে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

নতুন করে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া চার প্রতিষ্ঠান হলো—ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান বা ডিকে ডিজিটাল ব্যাংক, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। এর মধ্যে ডিকে ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা। নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। আর বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেডের উদ্যোগে গঠিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলওআই পাওয়া মানেই চূড়ান্ত ব্যাংকিং লাইসেন্স পাওয়া নয়। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবকাঠামোসহ নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণের পরই চূড়ান্ত লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ মিলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ দফায় ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, শিল্পগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি অংশীদারত্ব থাকা বিভিন্ন উদ্যোগ ছিল।

এর আগে ২০২৩ সালে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে কড়ি ও নগদ ডিজিটাল ব্যাংক প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছিল। কড়ি নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে চূড়ান্ত লাইসেন্সের পর্যায়ে যেতে পারেনি। এবার প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকগুলো প্রচলিত শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার কথা। এসব ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনায় ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের শর্তও রয়েছে। বর্তমান নীতিমালায় একটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারিত আছে।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে আর্থিক সেবার আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর বিষয়গুলো সামনে এসেছে। তবে চূড়ান্তভাবে কার্যক্রম শুরুর আগে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন