Thursday, August 6, 2026

কিয়েভে রাতভর বিস্ফোরণ, রুশ হামলায় নিহত ১৭; পাল্টা হামলা চালাল ইউক্রেন


ছবিঃ ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি গুদামের বাইরে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতভর চালানো এ হামলায় বেশ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ।

ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। হামলায় কিয়েভের কাছে ব্রোভারির কয়েকটি গুদাম স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া বুচা শহরের একটি গুদামে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া ওই হামলায় ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তাঁর দাবি, ইউক্রেনের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলে এসব প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব ছিল।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও অবকাঠামো। তিনি দাবি করেন, হামলায় এমন স্থাপনাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে সামরিক কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, “ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকলে আজ যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের অনেকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো।” একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর কাছে দ্রুত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানান তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেস্ক্রেস্তনভ অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তাঁর দাবি, মস্কো এখন খুচরা পণ্য, খাদ্য গুদাম, লজিস্টিক কেন্দ্র ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।

কিয়েভ থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় শহরজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের কমে যাওয়া প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুত পুনরায় পূরণের বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে। এর মধ্যে জার্মানিতে চূড়ান্ত সংযোজনের আগে কিছু অংশ ইউক্রেনে উৎপাদনের একটি প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দেশটির ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এছাড়া একটি তেল শোধনাগারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৪৭৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। মস্কোর দাবি, কিয়েভের হামলার জবাবে তারা ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও লজিস্টিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। ওই ইউনিটে ১২০টি পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলেনস্কি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জি-৭ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে আকাশ হামলা ও পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন