- ০৩ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও এর উন্নয়নের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রাখা প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান। সমাজকে নতুন এআই সক্ষমতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখা উচিত বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অল্টম্যানের এ মন্তব্যের পর প্রযুক্তি খাতে এআই উন্নয়নের গতি, নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট হাগিং ফেসের একটি সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনায় প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকের ধারণা, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা বলেছেন অল্টম্যান।
প্রযুক্তিবিষয়ক পডকাস্ট ‘ইকুইটি’র আলোচনায় সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা বলেন, এআই এজেন্টের মাধ্যমে এমন অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা নতুন হলেও ব্যবহৃত কৌশলটি খুব বেশি উন্নত বা অভিনব ছিল না।
তাদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত গোপন বা অত্যাধুনিক সাইবার হামলার চেয়ে অনেক বেশি সরল ও অগোছালো ছিল। এআই মডেলটি নিজের কার্যক্রম গোপন করার চেষ্টা করেনি বলেও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
পডকাস্টের আলোচক শন ও’কেন বলেন, ঘটনাটি এমন কোনো উন্নত সাইবার অভিযান ছিল না, যা শনাক্ত করা কঠিন। বরং এটি ছিল তুলনামূলকভাবে প্রকাশ্য ও অপরিকল্পিত ধরনের অনুপ্রবেশ।
তিনি মনে করেন, যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারত। ভবিষ্যতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে আলোচনায় এআই উন্নয়নকে শুধু ‘দ্রুত এগোনো’ বা ‘ধীর করা’—এই দুই বিকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচলিত ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
পডকাস্টের আরেক আলোচক অ্যান্থনি হা বলেন, এআই উন্নয়নের ভবিষ্যৎকে কেবল গতি বাড়ানো বা কমানোর বিতর্ক হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তির জন্য আরও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি, নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ঝুঁকি কমাতে ভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
তার মতে, বর্তমান এআই মডেলগুলোর আচরণ বা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে কেবল উন্নয়নের গতি কমানোই একমাত্র সমাধান নয়। উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের কাঠামো তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় আরও বলা হয়, হাগিং ফেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কিছু দুর্বলতা ছিল। পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটি যথাযথভাবে সুরক্ষিত না থাকায় এআই মডেলের অনলাইনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রণহীন এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সামান্য মানবিক ভুলও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে এআইয়ের সক্ষমতা যত বাড়বে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তত বেশি শক্তিশালী করতে হবে।
এদিকে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে অল্টম্যানের বক্তব্য বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ বাড়ানোর চাপ এবং নতুন পণ্য বাজারে আনার তাগিদ অনেক সময় সতর্কতার উদ্যোগকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
আলোচনায় ওপেনএআইয়ের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়টিও উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটি নিকট ভবিষ্যতে বাজারে না গেলেও ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সময় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেয়ারবাজারে দ্রুত তালিকাভুক্ত হওয়ার চাপ না থাকায় ওপেনএআইয়ের সামনে এআই উন্নয়নের গতি ও নিরাপত্তা নিয়ে তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
তবে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই উন্নয়ন থামানো বা শুধু ধীর করার পরিবর্তে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা, শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নতুন সক্ষমতার সঙ্গে সমাজকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।