Tuesday, September 15, 2026

এআই কি মানবজাতি ধ্বংস করতে পারে? প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক


ছবিঃ রোবট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এআইয়ের উন্নয়ন ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের গবেষক ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আবারও জোরালো মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এ বিতর্ক উসকে দেন। তার অভিযোগ, শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলো এমন প্রযুক্তির উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে, যার সম্ভাব্য ঝুঁকি মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বড়। তিনি এআইয়ের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কক্সনের বক্তব্যের পর অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সরাসরি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অ্যানথ্রপিক সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করে যে এআইয়ের কারণে একসময় পুরো মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। নিজের হিসাবে আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটনার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমন বক্তব্য প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ‘মানবজাতি ধ্বংসের সম্ভাবনা’ নির্দিষ্ট শতাংশে প্রকাশ করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

টেকক্রাঞ্চের ‘ইকুইটি’ পডকাস্টের সাম্প্রতিক এক পর্বে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন সাংবাদিক কির্স্টেন কোরোসেক, শন ও’কেন এবং অ্যান্থনি হা। সেখানে এআই নিয়ে চলমান ‘ডুমার’ বা চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কাভিত্তিক বক্তব্যের যৌক্তিকতা, এর পেছনে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং আসন্ন অ্যান্থ্রপিকের সম্ভাব্য আইপিও সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়।

আলোচনায় অ্যান্থনি হা বলেন, এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য সত্যিই বড় হুমকি এমন বিশ্বাস থাকলে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা অস্বাভাবিক নয়। তবে ‘১০ শতাংশের বেশি’ ধরনের সম্ভাবনার হিসাব কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তার মতে, প্রযুক্তি খাতে অনেক সময় পর্যাপ্ত ভিত্তি বা নির্দিষ্ট হিসাব ছাড়াই এ ধরনের শতাংশ ব্যবহার করা হয়।

তবে কক্সনের পদত্যাগকে তিনি অন্যদের বক্তব্যের তুলনায় আলাদা হিসেবে দেখেছেন। কারণ, কক্সন শুধু এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেননি, বরং সেই উদ্বেগের কারণে নিজের পেশাগত অবস্থানও বদলেছেন। ফলে তার সতর্কবার্তাকে নিছক প্রচারণা হিসেবে দেখার সুযোগ কম বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, কোরোসেক প্রশ্ন তোলেন এআই কোম্পানিগুলো কি নিজেদের প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি অদ্ভুত কৌশল হিসেবেও এসব ঝুঁকির কথা তুলে ধরছে? তার যুক্তি, কোনো এআই মডেল যদি অত্যন্ত সক্ষম না হতো এবং প্রত্যাশার বাইরে কাজ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করত, তাহলে এত উদ্বেগেরও প্রয়োজন হতো না। ফলে বিপদের কথা প্রকাশ করেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রযুক্তির শক্তি পরোক্ষভাবে তুলে ধরতে পারে।

অ্যান্থনি হা অবশ্য মনে করেন, বিষয়টিকে পুরোপুরি পরিকল্পিত বিপণন কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গবেষক কিংবা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই বাস্তব উদ্বেগ থেকেই এসব কথা বলছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ‘আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিপজ্জনক প্রযুক্তি তৈরি করেছি’ এমন ধারণা একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অবস্থান ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আলোচনায় অ্যান্থ্রপিকের সম্ভাব্য আইপিও নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শন ও’কেন বলেন, মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন