- ০৫ আগস্ট, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদনঃ মোঃ ইয়াসির আজিজ
খুলনা বিভাগে দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, সেই সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকাও। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮ হাজার ৮০৭ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৩৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪১ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে খুলনা জেলায় রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু খুলনা জেলাতেই ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৮ জন এবং বাগেরহাটে ২১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিভাগে আক্রান্তদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৯৭ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ২২৩ জন রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মৃত্যুর দিক থেকেও খুলনা বিভাগের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ২৯ জনের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা জেলায় মারা গেছেন আরও পাঁচজন। এ ছাড়া যশোর ও বাগেরহাটে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। কয়েক দিন ধরেই হাসপাতালগুলোতে নতুন রোগীর ভিড় দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত শয্যা সংকটের কারণে কোনো কোনো হাসপাতালে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, টব, টায়ার ও অন্যান্য সামগ্রীতে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ না করলে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়তে পারে।
নগরবাসীর দাবি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশকনিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হয়ে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।