- ০৬ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বান্দরবান
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন পাচারকারীরা একটি ব্যাগ ফেলে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ওই ব্যাগ থেকে প্রায় ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, বুধবার রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধীন আশারতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার-৪৬ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সদর ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকায় টহল জোরদারের সময় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া দিলে পাচারকারীরা একটি ব্যাগ ফেলে জঙ্গলের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে যায়। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে ৯টি কার্টনে রাখা মোট ৮৯ হাজার ৯১৬ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ইয়াবার মধ্যে ৮৯ হাজার ১৬ পিস হলুদ রঙের এবং ৯০০ পিস সবুজ রঙের ট্যাবলেট ছিল। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দ হওয়া এসব মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা।
অভিযানে কোনো মাদক পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব না হলেও তাদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তপথে কোনোভাবেই মাদক প্রবেশ করতে না দেওয়ার লক্ষ্যেই এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এ কারণে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।