- ১০ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দিনের নতুন করে সংঘাতের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তবে একই সঙ্গে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন, গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে কঠিন সামরিক জবাব দেওয়া হবে।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সে প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগের যুদ্ধবিরতির আর কোনো কার্যকারিতা নেই।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যাপক হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে আলোচনার অনুরোধ জানায়নি। বরং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।
এরই মধ্যে কাতারের প্রতিনিধিরা তেহরানে অবস্থান করে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর তিনটি কাতারি ও সৌদি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক যে তারা আর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাবে না এবং প্রণালিটি সব দেশের জন্য নির্বিঘ্ন ও অতিরিক্ত শর্ত ছাড়াই উন্মুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানে পৌঁছেছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মানবিক মূল্যও কম নয়। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশটির অন্তত ছয়টি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন।
পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক যোগাযোগগুলো গঠনমূলক ছিল। অন্যদিকে তেহরানও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে তার জবাব 'সমপর্যায়ের পাল্টা ব্যবস্থা' দিয়েই দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আপাত শান্ত পরিবেশ ফিরে এলেও রাজনৈতিক ভাষ্য, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।