- ১০ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করলেও অনেকে নিরাপদে বের হতে পারেননি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি আন্দালুসিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানল।
শুক্রবার আঞ্চলিক প্রশাসন জানায়, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখনো অন্তত ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালিয়ার্দোস এলাকার এন-৩৪০ মহাসড়কের কাছে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের বেদার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও জনবসতি হুমকির মুখে পড়ে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের মরদেহ তাদের গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে পালানোর সময় তারা পথেই আটকা পড়েছিলেন।
দাবানলে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে আরও একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া চারজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেওয়া প্রায় ৫০ জন বাসিন্দাকে স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ৩০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিটের ১৫০ সদস্যও যুক্ত হয়েছেন। ঘন ধোঁয়া ও আগুনের বিস্তারের কারণে এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এখনো আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের একটি লাইন ছিঁড়ে শুকনো ঝোপে আগুন লাগার পর সেখান থেকেই দাবানলের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
আন্দালুসিয়া সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জরুরি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সান্স এই ঘটনাকে অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ইউরোপজুড়ে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে বনাঞ্চল অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য আগুনও দ্রুত ভয়াবহ দাবানলে রূপ নিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।