- ১০ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে বড় ধরনের অগ্রগতি পেল ইউক্রেন। দেশটিকে নিজস্বভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ইন্টারসেপ্টর তৈরির প্রযুক্তিগত অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধের চিত্র বদলে না দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, যাতে ইউক্রেন ভবিষ্যতে নিজ দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়; এর সঙ্গে রাডার, লঞ্চার ও কমান্ড সিস্টেমও জড়িত। ফলে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ হবে না। তবে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রেও দ্রুত বদলে যাচ্ছে লড়াইয়ের ধরন। প্রচলিত ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি এখন ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। নজরদারি ড্রোন শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করছে, আবার বিস্ফোরকবাহী কামিকাজে ড্রোন নির্ভুল হামলা চালাচ্ছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই।
ইউক্রেনীয় বাহিনী বর্তমানে এমন স্থল রোবটও ব্যবহার করছে, যা গোলাবারুদ সরবরাহ, আহত সেনাদের উদ্ধার, এমনকি শত্রুর বাঙ্কারে হামলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, জনবলের সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ কৌশল এখন ইউক্রেনের অন্যতম ভরসা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ড্রোন প্রযুক্তিও দ্রুত উন্নত হচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, নতুন প্রজন্মের কিছু ড্রোন ইলেকট্রনিক জ্যামিং এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত হানতে সক্ষম, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের পাল্টা হামলাও রাশিয়ার অভ্যন্তরে চাপ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় সাইবেরিয়ার ওমস্ক অঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ভবিষ্যতের এই যুদ্ধের নিষ্পত্তি অনেকটাই নির্ভর করবে আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ওপর।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়। উভয় পক্ষই পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ফলে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্য পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার ধরনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে রাশিয়া কবে আলোচনার টেবিলে কার্যকরভাবে ফিরবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।