- ১০ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে আতঙ্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবু যুদ্ধ, সংঘাত আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ইতিহাস পেছনে ফেলে নগরবাসী আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে, রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ক্যাফের সামনে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখিয়ে মালিক মোহাম্মদ আল-দাহাবি বলেন, বিস্ফোরণটি আর মাত্র আধা ঘণ্টা পরে ঘটলে ক্যাফেটি মানুষে ভরে যেত। সৌভাগ্যক্রমে তখনো বেশির ভাগ ক্রেতা চলে গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ক্যাফের ছাউনি ছিঁড়ে যায় এবং মেঝেতে তৈরি হয় ছোট একটি গর্ত। এখনো সেই ক্ষতচিহ্ন বহন করছে দোকানটি।
গত ২ জুলাই দামেস্কের জাস্টিস প্যালেসের কাছের ওই বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হন। এরপর ৭ জুলাই ফোর সিজনস হোটেলের আশপাশে আরও দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সে সময় সফরে ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ওই হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হন।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও অনেক বাসিন্দার মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে তারা এমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছেন। তবু আদালত, সরকারি দপ্তর কিংবা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যেতে এখনো অনেকের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব জানান, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত আইএস-সংশ্লিষ্ট একটি চক্রকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল রাজধানীতে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করা এবং সরকারের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তাদের ভাষ্য, বিচ্ছিন্ন হামলা ঘটলেও তা পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত নয়। বরং এখনো গোপন জঙ্গি নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়া নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সংকট এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আইএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী এবং সাবেক শাসনামলের অনুগত কিছু নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে একই সঙ্গে একাধিক ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তবুও জীবন থেমে নেই। বিস্ফোরণস্থলের আশপাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, মানুষ কাজে বের হচ্ছেন, পার্কে সময় কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাফের মালিক মোহাম্মদ আল-দাহাবিও আশাবাদী। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে খুব শিগগিরই আবার ক্যাফের দরজা খুলতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, ভয় নয়—একদিন আবার স্বাভাবিক জীবনই জয়ী হবে।:::