Saturday, July 11, 2026

খুলনায় বস্তাবন্দি কিশোরীর লাশ: হত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে


ছবিঃ প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে আরফানা হোসেন নির্জনা নামে এক কিশোরীকে হত্যা করেছেন তার বাবা ও মা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। খুলনা 

খুলনা নগরীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক কিশোরীর হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে তাকে হত্যার ঘটনায় বাবা ও মায়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে নিহতের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শনিবার সকালে কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাতের দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় ১০ জুলাই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। তিনি খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা। এরপর তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন পারিবারিক তর্কের একপর্যায়ে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ লাঠি দিয়ে মেয়ের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে নির্জনার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ পুলিশের।

পুলিশ কমিশনার জানান, যেহেতু নিহতের বাবা-মাকেই এ মামলার অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাই পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক বাবাকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেএমপি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন