- ১১ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার, জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাসদস্যরা।
শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছেন।
ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ এবং বাঁশখালী উপজেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে ১০ পদাতিক ডিভিশনের বিশেষ উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ মাঠে কাজ করছে।
অন্যদিকে, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ইতোমধ্যে তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী।
শনিবার গুইমারা রিজিয়নের লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে ফটিকছড়ির সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের প্লাবিত এলাকায় বিশেষ ত্রাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেনাসদস্যরা নৌযান ও অন্যান্য উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে অন্তত ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।
সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যেসব এলাকায় এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত এবং মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে, সেসব স্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের খাদ্য ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সেনাসদস্যরা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন।
আইএসপিআর জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দুর্গত মানুষের পাশে থেকে অনুসন্ধান, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত জনবল ও ত্রাণসামগ্রীও মোতায়েন করা হবে।