- ০২ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রংপুর
ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে প্রক্সি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করানোর চেষ্টার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের আরও এক সদস্যকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), রংপুরের মো. তাজমিলুর রহমান (১৯), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের রংপুর কার্যালয়ের কর্মচারী মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং মো. নুরুল ইসলাম (২০)। একই মামলায় মো. নুরুল ইসলাম (৪৬) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল ফটকে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। এ সময় আশরাফুল ইসলামের আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার কাছে থাকা প্রবেশপত্র যাচাই করে সেটি জাল বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
একই সময় প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমানকেও আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে, পুলিশের ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে একটি সংঘবদ্ধ চক্র আশরাফুলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার চুক্তি করেছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের কর্মচারী বাদশা মাসউদ আলম ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে আশরাফুলকে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। চুক্তির অংশ হিসেবে আশরাফুল দিনাজপুর থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন।
তদন্তে জানা গেছে, আশরাফুল নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় অংশ না নিলেও পরে তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। সেই প্রবেশপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেছেন, পলাতক নুরুল ইসলামসহ কয়েকজনকে নিয়ে তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছিলেন। চক্রটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহ করত বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতেন। এর মাধ্যমে তারা চাকরিপ্রত্যাশীদের বিশ্বাস অর্জন এবং সংশ্লিষ্টদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।
কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।