Monday, August 24, 2026

ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর আল-আমিনকে কুপিয়ে হত্যা, স্বজনদের অভিযোগ সম্পত্তি বিরোধের জেরে হামলা


ছবিঃ মো. আল-আমিন সৈকত (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাবেক পৌর সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন সৈকত (৪৫) দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তার চাচাতো ভাইসহ কয়েকজন মিলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল-আমিন ভৈরব বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন। পাশাপাশি পৌর শহরে একটি আবাসিক হোটেলের ব্যবসাও পরিচালনা করতেন। রাতে হোটেলের অফিস থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার কোপ দেয় এবং পায়ের রগ কেটে দেয় বলে স্বজনরা জানান।

পরে পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। তার স্ত্রী তানিয়া খানমসহ স্থানীয়রা তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে গাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আল-আমিন ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আড়াই ব্যাপারীর বংশের মৃত জসীম মিয়ার ছেলে।

নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। তখন আল-আমিন তাকে ভাত প্রস্তুত রাখতে বলেন। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি বাসায় এসে জানান, তার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তানিয়ার দাবি, আহত অবস্থায় আল-আমিন তাকে জানান, তার চাচাতো ভাই জুম্মন, হাসানসহ তিন-চারজন তাকে কুপিয়ে আহত করেছেন। এ ঘটনায় চাচা মমিন মিয়া এবং চাচাতো ভাই রৌদ্র ওরফে বাবুও জড়িত বলে তিনি স্বামীর কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। এরপর আল-আমিন অচেতন হয়ে পড়েন।

তানিয়া আরও অভিযোগ করেন, মমিন মিয়ার সঙ্গে তার স্বামীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের মা মিনা বেগমও কয়েকজন স্বজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

আল-আমিনের বন্ধু তমাল আহমেদ বলেন, রোববার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা আল-আমিনের আবাসিক হোটেলে একসঙ্গে ছিলেন। পরে তিনি বাড়িতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর আল-আমিনের ওপর হামলার খবর পান। তবে কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

নিহতের চাচাতো ভাই আরাফাত ওরফে বড় মিয়া জানান, ঢাকায় নেওয়ার পথেই আল-আমিনের মৃত্যু হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ভৈরবে আনার কথা রয়েছে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আল-আমিনের ওপর হামলার খবর রাতেই পুলিশ জানতে পারে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ বর্তমানে ঢাকায় রয়েছে এবং সেখানে ময়নাতদন্ত চলছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন