Friday, January 9, 2026

ভেনেজুয়েলা সংকট ও মনরো ডকট্রিন: পশ্চিম গোলার্ধে চীনকে ঠেকানোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের


ছবিঃ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বেইজিংয়ে চীনের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত এক স্বাগত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বেইজিং, চীন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মিরাফ্লোরেস প্যালেস/রয়টার্সের মাধ্যমে হ্যান্ডআউট)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী আটক করার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি দেশটিতে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ আরও জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এই ঘটনার পর লাতিন আমেরিকায় চীনের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বাস্তবতাই বদলায়নি, বরং চীনের জন্যও একদিকে ঝুঁকি, অন্যদিকে সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বেইজিং এই ঘটনাকে নতুন যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ১৯ শতকের ‘মনরো ডকট্রিন’ সামনে এনেছেন। এই নীতির আধুনিক ব্যাখ্যায় ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে—পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো পরাশক্তির প্রভাব তারা মেনে নেবে না। এতে মূলত চীনের বিনিয়োগ ও উপস্থিতিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলাকে তেল উৎপাদন পুনরায় শুরুর সুযোগ দিতে চাইলে চীন, রাশিয়া, ইরান ও কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্ত দিতে পারে ওয়াশিংটন। যদিও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় চীন কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বেইজিং একে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতের চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা চীনের জন্য দ্বিমুখী বার্তা বহন করছে—একদিকে লাতিন আমেরিকায় তাদের বিনিয়োগ যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা স্পষ্ট হয়েছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ‘প্রভাব বলয়’ ধারণাকে বৈধতা দেওয়ায় পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে তাইওয়ান প্রশ্নে, চীন ভবিষ্যতে আরও আক্রমণাত্মক যুক্তি দাঁড় করাতে পারে।

তাইওয়ানকে চীন নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের অনেক ব্যবহারকারী ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে তাইওয়ানের তুলনা টানছেন। কেউ কেউ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে জোর করে আটক করতে পারে, তাহলে চীনও নিজেদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে দাবি করা তাইওয়ানে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে তাইওয়ান সংকটে রূপ নেবে না। কারণ তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো শক্তিশালী মিত্ররা জড়িত, যা পরিস্থিতিকে অনেক বেশি জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

গত দুই দশকে ভেনেজুয়েলা ছিল লাতিন আমেরিকায় চীনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর দেশটির তেলের বড় ক্রেতা ছিল চীন। পাশাপাশি অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে বেইজিং। তবে এই অংশীদারিত্বে সামরিক নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা চীনকে আরও বাস্তববাদী হতে বাধ্য করবে। তারা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে, লাতিন আমেরিকায় নিজেদের ঝুঁকি কমানোর পথ খুঁজবে। একই সঙ্গে এই ঘটনা ওয়াশিংটনের জন্যও একটি বার্তা—বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তির প্রদর্শন বাড়লেও, তার প্রতিক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সামাল দেওয়া সহজ হবে না। তথ্যসুত্রঃ আল জাজিরা

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন