Friday, February 27, 2026

গাজার বুরেইজ ও খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫


ছবিঃ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি গণহত্যামূলক যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি মসজিদ, যার চারপাশে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাবু স্থাপন করা হয়েছে, গাজা সিটিতে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মাহমুদ ইসা/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবির ও দক্ষিণের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় দুটি পুলিশ পোস্ট লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

খান ইউনিসের Nasser Medical Complex–এর চিকিৎসকরা জানান, আল-মাসলাখ মোড়ে একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলার পর তিনটি মরদেহ ও কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি এমন এলাকায় হয়েছে যা সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

একই সময়ে মধ্য গাজার Bureij refugee camp–এর প্রবেশমুখে আরেকটি পুলিশ পোস্টে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের মুখপাত্র Hazem Qassem এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান হামলা প্রমাণ করে ইসরায়েল মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকে তোয়াক্কা করছে না এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে কার্যত অগ্রাহ্য করছে। তাঁর দাবি, অক্টোবরের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়েও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ করা ৩৭টি সহায়তা সংস্থাকে আগামী ১ মার্চের মধ্যে কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংস্থাগুলোকে তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হবে; অন্যথায় কাজ বন্ধ করতে হবে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে Médecins Sans Frontières, Oxfam International, Norwegian Refugee Council এবং CARE International। সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তর করলে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং মানবিক নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

Oxfam International এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, গাজায় সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হলে এর প্রভাব তাৎক্ষণিক হবে এবং সামগ্রিক মানবিক ব্যবস্থার ওপর বড় ধাক্কা আসবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান হামলা ও সহায়তা প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে গাজার বহু পরিবার এখনো বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

অক্টোবর ২০২৩–এর পর থেকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানায়। সর্বশেষ হামলা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা গাজা এবং পশ্চিম তীর—উভয় অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন