- ০২ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইসরায়েলের লেবানন ও গাজায় চলমান সামরিক অভিযান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আঞ্চলিক এই উত্তেজনা বাড়তে থাকলে কূটনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং গাজায় চলমান হামলা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের শামিল। তাঁর দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কার্যক্রম আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ যেকোনো একদিকে সংঘাত বাড়লে তা পুরো যুদ্ধবিরতি কাঠামোকেই দুর্বল করে দেয়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, লেবাননে নৌ অবরোধ ও সামরিক অভিযান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে এবং বৈরুতের কিছু এলাকায় হামলার হুমকিও দিয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির সেনাবাহিনী দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়ে এলাকায় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, উভয় পক্ষই সহিংসতা বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনাদের অগ্রযাত্রা থামানো হয়েছে।
তবে এই ধরনের দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ না হলে কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত রাখা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধসহ আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।