- ০২ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে বর্তমান ডেমোক্র্যাট মেয়র কারেন বাস এগিয়ে থেকে নভেম্বরের রান-অফ ভোটে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন প্রক্ষেপণ অনুযায়ী বাস প্রথম ধাপ পার করেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ, যা বিবিসির অংশীদার। ফলে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি লড়বেন নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে।
সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় রয়েছেন সহকর্মী ডেমোক্র্যাট ও সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রামান, এবং রিপাবলিকান দলীয় নবাগত ও রিয়েলিটি টিভি তারকা স্পেন্সার প্র্যাট। ভোট গণনা শেষ হলে এ দুইজনের মধ্য থেকে একজন বাসের মুখোমুখি হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরের নেতৃত্ব পাওয়া ব্যক্তি হিসেবে নতুন মেয়রকে বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গৃহহীনতা সংকট, সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক আয়োজনকে ঘিরে নগর ব্যবস্থাপনার চাপ।
ক্যালিফোর্নির স্থানীয় নির্বাচনী ব্যবস্থায় ‘জঙ্গল প্রাইমারি’ পদ্ধতি চালু রয়েছে, যেখানে দলীয় পরিচয় নয়, বরং শীর্ষ দুই প্রার্থী সরাসরি সাধারণ নির্বাচনে অগ্রসর হন।
ভোট গণনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ফলাফলে কারেন বাস প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। স্পেন্সার প্র্যাট পেয়েছেন প্রায় ৩০ শতাংশ এবং নিথিয়া রামান পেয়েছেন ২২ শতাংশ ভোট।
কারেন বাস দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ছয়বার কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন। মেয়র হিসেবে তাঁর বর্তমান মেয়াদে শহরের গৃহহীনতা ও অগ্নিকাণ্ড-পরবর্তী পুনর্বাসনসহ নানা ইস্যু সামনে এসেছে।
অন্যদিকে স্পেন্সার প্র্যাট রাজনৈতিক নবাগত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নগর প্রশাসনের সমালোচনায় সক্রিয় হয়েছেন। শহরের নিরাপত্তা ও গৃহহীনতা সমস্যাকে কেন্দ্র করে তিনি নিজের প্রচারণা চালিয়েছেন।
নিথিয়া রামান ২০২০ সাল থেকে সিটি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাশ্রয়ী আবাসন সম্প্রসারণ ও গৃহহীনতা মোকাবিলাকে তাঁর নির্বাচনী অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
নভেম্বরের চূড়ান্ত ভোটে কারেন বাসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে, যা একই সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসের আগামী দিনের নীতি ও উন্নয়ন দিকনির্দেশনাও ঠিক করে দেবে।