- ০২ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক দিন আগেই সতর্ক করেছিলেন, মস্কো বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতভর রাশিয়া ৬৫৬টি ড্রোন এবং ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ, মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রো এবং পূর্বাঞ্চলের খারকিভ, পোলতাভা ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল।
বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০২টি ড্রোন ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বড় সংখ্যক হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো জানান, রাজধানীতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। তিনি নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান এবং সতর্কতামূলক সাইরেন চলাকালে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে আরও অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর ওলেক্সান্দার গানঝা। অন্যদিকে খারকিভে ড্রোন হামলায় একজন শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার সময় কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের মেট্রো স্টেশন ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নেয়। টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে শহরগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো এবং জ্বালানি ও পরিবহন খাতের স্থাপনা, যেগুলো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে। সেখানে একটি হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন। একই সময়ে ক্রাসনোদার শহরের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউক্রেন বলছে, তারা পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, বড় ধরনের রুশ হামলার সম্ভাবনা রয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।
চলমান এই সংঘাত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর থেকে এখনো অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি থমকে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।