- ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চীনের পরিচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ ডিপসিক প্রায় ৫০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সংগ্রহের লক্ষ্যে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ রাউন্ড শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ রাউন্ডে অংশ নিচ্ছে টেনসেন্ট হোল্ডিংস, কনটেম্পোরারি অ্যাম্পেরেক্স টেকনোলজি (CATL)সহ বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই বিনিয়োগ সম্পন্ন হলে ডিপসিকের বাজারমূল্যায়ন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৫২ থেকে ৫৯ বিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত।
ডিপসিক গত বছর তাদের উন্নত এআই মডেল ভি৩ ও আর১ প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের মধ্যে চীনের এআই সক্ষমতা নিয়ে যে ধারণা ছিল, সেটিকে চ্যালেঞ্জ জানায় এই স্টার্টআপ।
দীর্ঘদিন বাইরের বিনিয়োগ না নেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে এবার বড় পরিসরে তহবিল সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই শিল্পে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
সূত্র অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা লিয়াং ওয়েনফেং নিজেই এই রাউন্ডে প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগ করবেন। পাশাপাশি টেনসেন্ট প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউয়ান এবং ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান CATL প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
এ ছাড়া নেটইজ, জেডি ডটকম এবং চীনের ন্যাশনাল এআই ফান্ডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এই অর্থায়নে যুক্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে উন্নত চিপ ও প্রযুক্তি সরাসরি পাওয়া না গেলেও চীন নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ডিপসিক সেই কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এআই শিল্প এখন চ্যাটবট থেকে উন্নত “এজেন্টভিত্তিক” সিস্টেমের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে কম মানব হস্তক্ষেপে জটিল কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হবে। এই পরিবর্তনের ফলে কম্পিউটিং শক্তির চাহিদাও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিপসিকের এই বিনিয়োগ রাউন্ড চীনের এআই খাতে সবচেয়ে বড় বেসরকারি অর্থায়নগুলোর একটি হলেও, এটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক বিশাল তহবিল সংগ্রহের তুলনায় ছোট।
তবে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে এটি দেশীয় এআই শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।