- ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
প্রযুক্তি সম্মেলনের মঞ্চে ছোট ছোট পা ফেলে হাঁটা, হঠাৎ শুয়ে পড়া কিংবা নির্দেশ পেলে ডিগবাজি খাওয়া এমন সব কাণ্ডে দর্শকদের মন জয় করেছে ক্ষুদ্রাকৃতির রোবট ‘মাইক্রোডাক’। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের হাতে এসব রোবটের প্রদর্শনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এক দিনের ব্যবধানে রোবটগুলোর প্রি-অর্ডার ২০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী ক্লেম দেলাঙ্গ।
জার্মানির বার্লিনে এনভিডিয়ার জিটিসি সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেওয়ার সময় হুয়াংকে একদল ছোট্ট মাইক্রোডাক রোবট নিয়ে খেলতে দেখা যায়। রোবটগুলোর হাঁটাচলা, ছোট ইলেকট্রনিক শব্দ করা, বসে পড়া এবং কণ্ঠস্বরের নির্দেশে ডিগবাজি খাওয়ার দৃশ্য দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি নির্দেশ পেলে রোবটগুলো মজার ভঙ্গিতে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে পড়ে, যেন ঘুমিয়ে আছে।
হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী ক্লেম দেলাঙ্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মাইক্রোডাকের প্রি-অর্ডার দ্রুত বেড়ে ২০ হাজারের বেশি হয়েছে। রোবটগুলো বড়দিনের আগেই ক্রেতাদের হাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে আসন্ন ছুটির মৌসুমে খেলনা ও প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে এগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মাইক্রোডাক শুধু শিশুদের খেলনা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। এর প্রচারণামূলক ভিডিওতে প্রাপ্তবয়স্কদেরও রোবটগুলোর সঙ্গে খেলতে দেখা গেছে। বিনোদনের পাশাপাশি রোবটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আগ্রহীদের কাছেও পণ্যটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
মাইক্রোডাক তৈরি করেছে পোলেন রোবোটিকস। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে হাগিং ফেসের অধীনে আসে। হাগিং ফেস মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠান, যা এআই মডেল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বিনিময়ের জন্য পরিচিত।
মাইক্রোডাক একটি ওপেন সোর্স রোবট। অর্থাৎ এর প্রযুক্তিগত কাঠামোর উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে তাঁরা রোবটটির কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন এবং নতুন সক্ষমতা তৈরিতে অবদান রাখতে পারেন।
রোবটগুলোকে প্রাথমিক কিছু কাজ শেখাতে এনভিডিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভার্চুয়াল বা সিমুলেশন পরিবেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগুলোকে হাঁটা, বসা ও দাঁড়ানোর মতো কাজ শেখানো হয়েছে। এসব মৌলিক দক্ষতা নিয়েই রোবটগুলো বাজারে আসবে।
তবে এর সক্ষমতা এখানেই শেষ নয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজেদের রোবটকে নতুন কৌশল শেখাতে পারবেন। পরে শেখানো সেই কৌশল অন্য ব্যবহারকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ারও সুযোগ থাকবে। এতে একই রোবটের জন্য নতুন আচরণ ও দক্ষতা তৈরিতে একটি ব্যবহারকারীভিত্তিক কমিউনিটি গড়ে উঠতে পারে।
মাইক্রোডাকের আগে হাগিং ফেস বাজারে এনেছিল ‘রিচি মিনি’ নামের আরেকটি ছোট রোবট। সেটিও আকার ও নকশার কারণে প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছিল। নতুন মাইক্রোডাকের জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠানটির রোবটিকস উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআই ব্যবস্থার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি যুক্ত হওয়ায় প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও বিপদ দুই দিকই আলোচনায় এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মাইক্রোডাকের মতো বিনোদনধর্মী রোবট সাধারণ মানুষের কাছে এআই ও রোবটিকসকে আরও সহজবোধ্য করে তুলছে।
তবে অনলাইনে বিপুল সাড়া পাওয়া মানেই দীর্ঘ মেয়াদে বিক্রির রেকর্ড গড়বে, তা নিশ্চিত নয়। বড়দিনের আগে সরবরাহ, ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং নতুন কৌশল শেখানোর সুবিধা কতটা কার্যকর হয় এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত পণ্যটির বাজারসাফল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।