- ২২ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক করতে অতিথিদের ওপর চেকআউটের আগে পরিচ্ছন্নতার কাজ চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আনছে আবাসন ভাড়া দেওয়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, অতিথিদের বিছানার চাদর খুলে রাখা, বাসন ধুয়ে যথাস্থানে গুছিয়ে রাখা, কাপড় ধোয়ার যন্ত্র চালু করা কিংবা ঘরের ময়লা বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মতো কাজ বাধ্যতামূলক করতে পারবেন না হোস্টরা।
আগামী ২০ নভেম্বর বা তার পরে করা বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতার ফি দেওয়ার পরও অতিথিদের দিয়ে এসব কাজ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এবং চেকআউটের নির্দেশনা নিয়ে অসন্তোষের পর এ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এয়ারবিএনবির নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, থাকার জায়গা ছাড়ার আগে অতিথিদের ওপর নির্দিষ্ট কিছু পরিচ্ছন্নতার কাজ বাধ্যতামূলক করা যাবে না। বিশেষ করে, পরিচ্ছন্নতার খরচ দেওয়ার পরও অতিথিদের নিজেরাই ঘর পরিষ্কার করতে বলা হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি নীতিগত পরিবর্তন আনছে।
এয়ারবিএনবিতে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া অনেক অতিথি দীর্ঘদিন ধরে চেকআউটের আগে অতিরিক্ত কাজের নির্দেশনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, পরিচ্ছন্নতার জন্য আলাদা ফি দেওয়ার পরও কেন তাঁদের বিছানার চাদর খুলতে, বাসন ধুতে কিংবা ময়লা সরাতে হবে।
কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ না করলে অতিরিক্ত অর্থ জরিমানা হিসেবে দিতে হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা কমিয়ে অতিথিদের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা সহজ করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।
তবে হোস্টদের সবাই এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাননি। এয়ারবিএনবির কমিউনিটি ফোরামে কয়েকজন বাড়ির মালিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অতিথিদের কিছু মৌলিক পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব থাকা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, ভাড়া দেওয়া বাড়ি পরিষ্কার রাখা, সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী অতিথির জন্য ঘর প্রস্তুত করার খরচ ও শ্রম হোস্টদেরই বহন করতে হয়।
এক হোস্টের মতে, নতুন বিধিনিষেধ এয়ারবিএনবিকে প্রচলিত হোটেলের মতো ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাঁর যুক্তি, ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকার বিশেষত্ব হলো বাড়ির মালিকের ব্যক্তিগত যত্ন ও স্বতন্ত্র পরিবেশ। অতিথিদের বাসন ধুয়ে রাখা বা ব্যবহৃত বিছানার চাদর সরিয়ে রাখার মতো দায়িত্ব দেওয়া হলে সেই অভিজ্ঞতার একটি অংশ বজায় থাকে। নতুন নিয়মে এই সুযোগ সীমিত হলে দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যাটফর্মে থাকা হোস্টদের কেউ কেউ তাঁদের বাড়ি ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ রেখেছে এয়ারবিএনবি। যেমন, খরার সময় পানির ব্যবহার সীমিত রাখার অনুরোধ জানাতে পারবেন হোস্টরা। একইভাবে বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকায় ভালুকের নাগালের বাইরে রাখা যায় এমন বিশেষ ময়লার পাত্র ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া যাবে।
অর্থাৎ, অতিথিদের ওপর সাধারণ পরিচ্ছন্নতার কাজ চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ সীমিত হলেও স্থানীয় পরিবেশ, নিরাপত্তা ও বিশেষ পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় কিছু নিয়ম বহাল থাকবে।
এয়ারবিএনবির পরিচ্ছন্নতার ফি ও অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৪ সালে বুকিংয়ের সময় দেখানো মূল দামের বাইরে পরিচ্ছন্নতার ফি যুক্ত করার কারণে প্রতিষ্ঠানটি মূল্যস্বচ্ছতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে। এর আগে ২০২৩ সালে এয়ারবিএনবি জানিয়েছিল, দুই লাখ ৬০ হাজারের বেশি হোস্ট তাঁদের পরিচ্ছন্নতার ফি কমিয়েছেন বা পুরোপুরি তুলে নিয়েছেন।
পরবর্তী সময়ে মূল্য দেখানোর ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে বিশ্বজুড়ে সার্চের ফলাফলে কর বাদে ফিসহ মোট মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো শুরু হয়। এর ফলে বুকিংয়ের আগে অতিথিদের মোট খরচ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হয়েছে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে অতিথিদের ওপর চেকআউটের সময় চাপ কমানোর পাশাপাশি হোস্টদের দায়িত্ব ও অতিথিদের প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে এয়ারবিএনবি। তবে বিধিনিষেধের কারণে কতজন হোস্ট তাঁদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
একদিকে অতিথিরা পরিচ্ছন্নতার ফি দেওয়ার পর বাড়তি কাজ থেকে মুক্তি চাইছেন, অন্যদিকে হোস্টরা তাঁদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরবর্তী অতিথির জন্য ঘর প্রস্তুত করার বাস্তব খরচের বিষয়টি সামনে আনছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এই দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য কতটা বজায় থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।