- ২২ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়াতে অর্থ সংগ্রহের নতুন পথ খুঁজছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে ভোটাধিকারহীন নতুন শ্রেণির শেয়ার বিতরণের পরিকল্পনা করেছে মার্ক জাকারবার্গের নেতৃত্বাধীন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে এসব শেয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেনযোগ্য করে মূলধন সংগ্রহ, কর্মীদের পারিশ্রমিক, অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন করপোরেট কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে চায় মেটা।
বুধবার তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের সময় বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে প্রযুক্তি ও ব্যবসাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সেমাফোর এ পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করেছিল।
মেটার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সুসান লি জানান, প্রতিষ্ঠানটি নতুন একটি শ্রেণির ভোটাধিকারহীন মূলধনী শেয়ার তৈরি করবে। বিদ্যমান সব শেয়ারধারীকে শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে এসব শেয়ার দেওয়া হবে। পরে মূলধন সংগ্রহ, কর্মীদের পারিশ্রমিক প্রদান, অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং সাধারণ করপোরেট প্রয়োজনে নতুন শেয়ার ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
লি বলেন, নতুন শেয়ার চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান ‘ক্লাস এ’ ও ‘ক্লাস বি’ শেয়ারধারীদের ভোটাধিকার অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিষ্ঠানের অর্থ সংগ্রহের বিকল্প বাড়ানো। এর ফলে মেটার প্রতিষ্ঠাতা-নেতৃত্বাধীন কাঠামো বজায় রেখেই ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সহজ হতে পারে।
এআই খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার মধ্যেই মেটার সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়িয়েছে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
তবে আয়ের পাশাপাশি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মেটার ব্যয় ও পরিচালন খরচ ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন শেয়ার ইস্যুর পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের অর্থায়ন এবং আর্থিক নমনীয়তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মেটার ভার্চ্যুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগ এখনো লোকসানে রয়েছে। তবে লোকসানের পরিমাণ আগের তুলনায় কমার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বিভাগের লোকসান কমে ২০২৬ সালে ১৮ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।
গত এক বছরে এআই গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি মিউজ স্পার্ক ও মিউজ গ্লিমারসহ একাধিক এআই মডেল চালুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মিউজ ওয়ান্ডার এবং মিউজ স্পার্ক ওপেন নামে নতুন মডেল প্রকাশ করেছে। মিউজ স্পার্ক ওপেনের উন্মুক্ত ওজনভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে বাইরের গবেষক ও নির্মাতারাও মডেলটির প্রযুক্তিগত উপাদান ব্যবহার করে নিজেদের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান।
এ ছাড়া বড় সফটওয়্যার প্রকল্পের কোড বিশ্লেষণ ও উন্নয়নে সহায়তার জন্য ‘মিউজ কোড’ নামে একটি এআই এজেন্টও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এআই সহকারীকে আরও সহজবোধ্য ও ব্যবহারকারীবান্ধব করে তুলতে মেটা মিউজের জন্য নতুন ভার্চ্যুয়াল চরিত্রও উন্মোচন করেছে তারা।
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মাত্র দেড় মাসের মধ্যে এক কোটির বেশি মানুষ মিউজের ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ব্যবহার শুরু করেছেন। তাঁর দাবি, পণ্যটির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে এবং অ্যাপ স্টোরের শীর্ষস্থানেও এটি প্রায় প্রতিদিন অবস্থান করছে।
জাকারবার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, মিউজের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের কার্যকর সংযোগ তৈরি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি এখন এর কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পর্যায়ে প্রবেশ করছে। দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বজুড়ে শতকোটি মানুষের কাছে এআই সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে মেটার।
ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আইনি ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে মেটা। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মামলার বিচারও আগামী মাসগুলোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সুসান লি বলেন, চলমান আইনি ও নিয়ন্ত্রক বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ও আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এমন ঝুঁকি মেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এআই খাতে প্রতিযোগিতা যখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে, তখন নতুন শ্রেণির শেয়ার চালুর পরিকল্পনা মেটাকে অর্থ সংগ্রহের বাড়তি সুযোগ দিতে পারে। তবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে কতটা মূলধন সংগ্রহ করা হবে এবং ভবিষ্যতে শেয়ারগুলোর বাজারমূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।