Thursday, October 22, 2026

পিঠা-পুড়ির দোকান থেকে রেস্তোরাঁ: ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক


ছবিঃ দোকানের (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য ব্যবসার ওপর নজরদারি জোরদার করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও খাদ্যপণ্যের জন্য নিবন্ধন এবং লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ জন্য আবেদন করা যাবে।

নতুন নিয়মের আওতায় রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, খাদ্য আমদানিকারক এবং বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানও আসছে। পাশাপাশি বিশেষায়িত ও পুষ্টিসংক্রান্ত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রযোজ্য নিয়ম মেনে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। গতকাল প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএসএ জানায়, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নতুন প্রবিধানমালা অনুসারে নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

নতুন বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, খাদ্যপণ্যের মোড়কে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্য কেনার সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই নম্বর ব্যবহার করে পণ্য বা প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ জানানোর সুযোগও তৈরি হবে।

প্রবিধানমালার তফসিলে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবাদাতা, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী এবং প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবার বিক্রেতা, পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসায়ী, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনাকারী এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও এ নিয়মের আওতায় পড়বে। কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানিকারক এবং এ ধরনের পণ্য ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারকদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তবে সব খাদ্য ব্যবসার জন্য একই ধরনের অনুমোদন প্রযোজ্য নয়। প্রচলিত ১৬ শ্রেণির ব্যবসার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বিধান থাকলেও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন প্রবিধানমালায় শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বিশেষ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্যের মতো পণ্যের জন্য পৃথক বিধান রাখা হয়েছে। প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ নির্ধারিত বিশেষ খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিতে হবে।

এ ছাড়া জৈব খাদ্য, বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং অন্যান্য নির্ধারিত বিশেষ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিবন্ধন ও লাইসেন্সের বিধান অনুসরণ করতে হবে। যেসব খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি করা হয়, সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫’-এর বিধানও প্রযোজ্য হবে।

বিএফএসএ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরম ৫.১ ব্যবহার করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ নম্বর ফরমে আবেদন জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। অন্যদিকে, সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালু করার উদ্যোগ রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার পরিচিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ বাড়ানো এবং খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা তদারকিতে কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলাই কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন