- ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। পাবনা
প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) এখনো গড়ে ওঠেনি সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশে-বিদেশে শিক্ষকতা, গবেষণা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্থান পেয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকাতেও। এত অর্জনের পরও সাবেক শিক্ষার্থীদের এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তব রূপ না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ সীমিত হয়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয়। পরে ২০০৮ সালের ৫ জুন শুরু হয় এর একাডেমিক কার্যক্রম। দীর্ঘ এই সময়ে উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে বর্তমান শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় সংগঠন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পেশাগত ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের এই অভিজ্ঞতা বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, চাকরির প্রস্তুতি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থাকলে বিভিন্ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কও শক্তিশালী করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ, মেন্টরশিপ, গবেষণায় সহযোগিতা এবং দেশ-বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নেও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে যোগাযোগ ও কার্যক্রম থাকলেও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্রীয় কাঠামো না থাকায় এসব উদ্যোগের সমন্বিত সুফল পাওয়া কঠিন হচ্ছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগঠন গড়ে তোলার দাবি উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ইইই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহা. অহিদুল ইসলাম বর্তমানে সিটিগ্রুপের ইউকে বাংলা সিমেন্ট লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজার ও ইনচার্জ (ইলেকট্রিক্যাল) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রায় ১৮ বছর পার হলেও পাবিপ্রবিতে কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে না ওঠা হতাশাজনক। এমন সংগঠন নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারবিষয়ক দিকনির্দেশনা, চাকরির প্রস্তুতি, ইন্টার্নশিপ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা দিতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলা প্রয়োজন। সংগঠনটি যেন সব ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ব্যাচের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জি এম মেহেদী হাসান বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পে সহকারী নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু অবকাঠামো, শিক্ষাক্রম কিংবা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র ও কর্মক্ষেত্রে কী ধরনের অবদান রাখছেন, সেটিও প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। পাবিপ্রবির ১৮ বছরের পথচলায় বিভিন্ন বিভাগের বহু শিক্ষার্থী শিক্ষকতা, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাদের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মূল্যবান সম্পদ হলেও তাঁদের একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।
মেহেদী হাসান আরও বলেন, কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠলে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা পাবেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেন্টরশিপ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে নবীনদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারবেন।
তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক উন্নয়নেও সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রশাসন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুই প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থায়ী সেতুবন্ধন তৈরি হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই ঘাটতি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। সব বিভাগ ও ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের একই নেটওয়ার্কে যুক্ত করে নিয়মিত যোগাযোগ, ক্যারিয়ারবিষয়ক কার্যক্রম এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা গেলে উপকৃত হবেন বর্তমান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও উন্নয়নেও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান আরও সুসংগঠিতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।