Wednesday, October 21, 2026

লটারিতে দূরবর্তী স্কুলে পদায়ন, পারস্পরিক বদলির দাবিতে শিক্ষকরা


ছবিঃ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

লটারির মাধ্যমে দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়া সহকারী শিক্ষকেরা পারস্পরিক সম্মতিতে বদলির সুযোগ চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়ি থেকে অনেক দূরে কর্মস্থল নির্ধারিত হওয়ায় যাতায়াত, আবাসন, পারিবারিক দায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল এমন এলাকার শিক্ষকদের ভোগান্তি বেশি।

শিক্ষকদের এ দাবির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, শূন্য পদ বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীদের নির্ধারিত ক্যাচমেন্ট এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে পদায়ন করা হয়েছে। তবে শিক্ষকরা জোরালোভাবে দাবি জানালে বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে পদ খালি ছিল, সেসব জায়গায় প্রার্থীদের ক্যাচমেন্ট এলাকা অনুযায়ী পদায়ন করা হয়েছে। এরপরও তাঁদের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পারস্পরিক বদলির দাবি জানায় ‘সহকারী শিক্ষক ২০২৫ ব্যাচ’। এতে বলা হয়, লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারিত হওয়ায় অনেক শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের, এমনকি দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়ে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এতে কর্মজীবনের শুরুতেই তাঁদের নানা ধরনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বদলির ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। তাঁদের মতে, দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে কর্মস্থল অদলবদলের সুযোগ দেওয়া হলে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষকরা নিজেদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

বিশেষ করে চর ও হাওরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া অনেক শিক্ষকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে পারস্পরিক বদলির সুযোগ চালু হলে শিক্ষকদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি কর্মস্থলে স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তাঁদের ভাষ্য, পারিবারিক দায়িত্ব, নিরাপদ যাতায়াত, আবাসনের সমস্যা এবং সামাজিক বাস্তবতার কারণে দূরবর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন অনেক নারী শিক্ষকের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

এ কারণে নারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা অথবা তাঁদের জন্য সহজতর প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা কর্মস্থলে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের মতে, এ দাবি কেবল ব্যক্তিগত সুবিধার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পরিবেশও জড়িত। কর্মস্থল নিয়ে দুশ্চিন্তা ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমলে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে আরও মনোযোগ দিতে পারবেন। এর ইতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশেও পড়বে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা বলেন, লটারিতে পদায়ন পাওয়া শিক্ষকদের জন্য স্বচ্ছ, সহজ ও দ্রুত পারস্পরিক বদলির ব্যবস্থা চালু করা হলে কর্মজীবনের শুরুতেই তাঁদের অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিস্থিতি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হলে তাঁরা আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদানে মনোযোগ দিতে পারবেন।

শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যা, পারস্পরিক সম্মতি এবং নারী শিক্ষকদের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ সুযোগ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এখন শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিমন্ত্রী আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেও পারস্পরিক বদলির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন