- ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
গ্রিক মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল চলচ্চিত্র তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন ইলন মাস্ক। তবে ঘোষণার প্রায় তিন মাস পর তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি গ্রোক প্রকাশ করেছে মাত্র সাত মিনিটের একটি ভিডিও। এটিকে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের পরিবর্তে ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর এর দৃশ্যায়ন, সংলাপ ও গল্প বলার ধরন নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর গ্রোক ইমাজিনের আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ‘দ্য ওডিসি’ সিরিজের প্রথম পর্ব হিসেবে পরিচিতি দেওয়া এই নির্মাণে সহযোগিতা করেছে ওয়ান্ডার স্টুডিওস এবং পরিচালক ডেভ ওয়াকার। একই সঙ্গে ভিডিওটি তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশের আগ্রহও দর্শকদের কাছে জানতে চেয়েছে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট।
এর আগে মাস্ক জানিয়েছিলেন, গ্রোক দিয়ে ‘দ্য ওডিসি’র পূর্ণদৈর্ঘ্য সংস্করণ তৈরি করা হবে, যা ঐতিহাসিক নির্ভুলতা বজায় রাখবে। কিন্তু প্রকাশিত সাত মিনিটের ভিডিও সেই ঘোষণার তুলনায় অনেক ছোট। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এবং পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ নিয়েও আগে সমালোচনা করেছিলেন মাস্ক। নোলানের চলচ্চিত্রে অশ্বেতাঙ্গ ও ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতাদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। দুই নির্মাণের পদ্ধতিতেও রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। মাস্ক যেখানে এআইনির্ভর কনটেন্ট তৈরিতে জোর দিচ্ছেন, সেখানে নোলান প্রচলিত চলচ্চিত্র নির্মাণপদ্ধতি ও বাস্তব দৃশ্য ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
নোলানের চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে ছয়টি দেশে। এতে অংশ নিয়েছেন বিপুলসংখ্যক অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার করা হলেও নির্মাণটিতে বাস্তব লোকেশন ও ব্যবহারিক চলচ্চিত্র নির্মাণের নানা কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। আইম্যাক্স প্রদর্শনীর টিকিটের চাহিদাও ছিল ব্যাপক।
অন্যদিকে, গ্রোকের তৈরি ভিডিওটির কিছু দৃশ্যে বাস্তব অভিনেতাদের সমুদ্রে যাত্রার মতো বিশ্বাসযোগ্য আবহ তৈরি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করতে পারেন। তবে ভিডিওটির ঐতিহাসিক নির্ভুলতা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর কথোপকথনে প্রাচীন গ্রিক ভাষার ব্যবহার না থাকায় ঐতিহাসিক উপস্থাপনার দাবিটি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
ভিডিওটির প্রধান দুর্বলতা হিসেবে উঠে এসেছে গল্প বলার একঘেয়েমি, সংলাপের কৃত্রিমতা এবং চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শকের আবেগগত সংযোগ তৈরিতে ব্যর্থতা। দীর্ঘ বর্ণনার পর একের পর এক দাড়িওয়ালা চরিত্রের উপস্থিতি এবং নাটকীয় ভঙ্গিতে সংলাপ পরিবেশন ভিডিওটিকে গতিহীন করে তুলেছে বলে সমালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু দৃশ্য আলাদাভাবে বাস্তবসম্মত মনে হলেও পুরো ভিডিওতে কাহিনির গতি ও নাটকীয় উত্তেজনার অভাব রয়েছে।
এআই দিয়ে দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হলেও সেগুলোকে অর্থবহ চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে ভিডিওটি ঘিরে ওঠা সমালোচনা থেকে এমন প্রশ্ন সামনে এসেছে। বাস্তবের মতো দেখতে ছবি বা দৃশ্য তৈরি করাই যে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়, গ্রোকের এই পরীক্ষামূলক নির্মাণে সেই সীমাবদ্ধতাই স্পষ্ট হয়েছে।
সাত মিনিটের এই ভিডিওর পর ‘দ্য ওডিসি’র পূর্ণদৈর্ঘ্য সংস্করণ তৈরির বিষয়ে নতুন কোনো সময়সূচি বা বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গ্রোকের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রে রূপ নেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।