- ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং এ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
কাতারের রাজধানী দোহায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার সময় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
ফোরামের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কনফারেন্সের মন্ত্রিপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যগুলোকে কীভাবে বাস্তবায়নযোগ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম প্রকল্পে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগের পরিবেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আশিক চৌধুরী। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে উঠে আসে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত তিনটি সংস্থাকে একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। এই কাঠামোর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীরা কী ধরনের সুবিধা পাবেন, প্যানেল আলোচনায় সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
জবাবে আশিক চৌধুরী বিনিয়োগ উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য, সহযোগিতা ও কার্যক্রমের সমন্বয় আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার পাশাপাশি জ্বালানি রূপান্তর ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে থাকা ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে এসব প্রকল্পে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।
তবে প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা, সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, অবস্থান এবং বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
জ্বালানি চাহিদা পূরণ, আমদানিনির্ভরতার চাপ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায় এবং বিনিয়োগকারীদের কতটা আগ্রহ তৈরি হয়, তার ওপর উদ্যোগটির অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।