Tuesday, October 27, 2026

বৈদেশিক সহায়তার দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ, চাপে বাংলাদেশের অর্থায়ন


ছবিঃ বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি পরিশোধ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ যে পরিমাণ অর্থ পেয়েছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তার দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় করতে হয়েছে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে। একই সময়ে নতুন বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক অর্থায়ন পরিস্থিতিতে চাপের চিত্র উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বিপরীতে, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে ছাড় হয়েছে ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এ সময়ে সহায়তা হিসেবে পাওয়া অর্থের তুলনায় ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

ইআরডির হিসাব বলছে, গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের মোট ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ঋণের আসল হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। পাশাপাশি সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বেড়েছে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সুদ বাবদ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ডলারে।

অন্যদিকে, নতুন বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড়ে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ছাড় করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ছাড় কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পাওয়া সহায়তার মধ্যে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার ছিল ঋণ এবং ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান। ফলে নতুন অর্থায়নের প্রবাহ কমে আসার পাশাপাশি পুরোনো ঋণের দায় মেটাতে সরকারকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

তবে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সে হিসাবে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ এবং ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে প্রতিশ্রুতি বাড়লেও বাস্তবে অর্থ ছাড়ের পরিমাণ কমে যাওয়ায় দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই অর্থ দ্রুত ছাড় না হওয়ায় সরকারের প্রত্যাশিত বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত হচ্ছে না।

ইআরডির কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে একদিকে নতুন সহায়তার অর্থ ছাড় কমেছে, অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধি পেলেও তাৎক্ষণিক অর্থপ্রবাহে তার প্রতিফলন ঘটেনি। একই সময়ে পুরোনো ঋণের দায় পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হওয়ায় বৈদেশিক সহায়তার অর্থ দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগও তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন