- ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট আবার সচল হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
এর আগে নিরাপত্তা দুর্বলতার আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওয়েবসাইটটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করতেই আগাম সতর্কতামূলক এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র এর আগে জানিয়েছিলেন, জরুরি নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষে রোববার সকালে সাইটটি আবার চালু করা হয়েছে।
বহুল ব্যবহৃত সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির (PHP) দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানোর সুযোগ পেতে পারেন। এতে সার্ভারে সংরক্ষিত ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ পিএইচপিভিত্তিক বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিরাপত্তা দুর্বলতা যাচাই, প্রয়োজনীয় হালনাগাদ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনার মাধ্যমে অনলাইন সেবা সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে সাইবার হামলার আশঙ্কা থাকলেও সাইটটিতে বাস্তবে কোনো হামলা চালানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, সতর্কতামূলকভাবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা এবং ওয়েবসাইটে সফল সাইবার হামলার ঘটনা এক বিষয় নয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে না। ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ, সার্ভারের কনফিগারেশন এবং অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করে।
ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনলাইন সেবা ব্যবহারের সুযোগ ফিরেছে। তবে এ ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়মিত হালনাগাদ ও দুর্বলতা শনাক্তের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।