- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর এক ডজনের বেশি কার্যালয়ের তালা খোলা হয়েছে। কোথাও আনুষ্ঠানিকভাবে তালা খুলে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা হয়েছে, আবার কোথাও কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও স্লোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল উপস্থিতি। দলটির একাধিক সূত্র বলছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত সরকারের মনোভাব যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।
দলীয় নেতাদের ধারণা, কারাবন্দী নেতা–কর্মীদের জামিন ও মুক্তির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কতটা বাধা আসে, সেটিও তারা পর্যবেক্ষণ করছে। মধ্যম ও নিম্ন সারির নেতারা জামিন পেতে শুরু করলে সাংগঠনিক তৎপরতা ধীরে ধীরে বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ভারতে অবস্থানরত দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে থাকা নেতা–কর্মীদের সীমিত পরিসরে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কিছু কার্যালয় খোলার চেষ্টা চলছে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের নেতারা এসব উদ্যোগে ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে।
তবে দলটির ভেতরেই এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দ্রুত দৃশ্যমান সক্রিয়তা দেখালে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার গঠনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতার জামিন পাওয়ার ঘটনায় দলীয় নেতাদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। প্রবীণ ও অসুস্থ নেতাদের মুক্তি পাওয়াকে অনেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জড়িত শীর্ষ নেতাদের ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
নির্বাচনের পর পঞ্চগড়, বরিশাল, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে তালা খোলা বা প্রতীকী উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, আবার কিছু জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে পাল্টা প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কৌশল হচ্ছে সীমিত পরিসরে মাঠে উপস্থিতি দেখানো এবং একই সঙ্গে সরকারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, একটি বড় সমর্থকগোষ্ঠী থাকায় দলটির পক্ষ থেকে কিছুটা সহনশীলতা প্রত্যাশা অস্বাভাবিক নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাজনীতি করতে হলে দেশে কার্যকর নেতৃত্ব ও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।
সার্বিকভাবে পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণধর্মী পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের অবস্থান, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা—এসব বিষয়ই আগামী দিনে দলটির সাংগঠনিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।