Saturday, February 28, 2026

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বার্তা দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি


ছবিঃ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।(সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক পথ বেছে নেয়, তবে তেহরান তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান সংলাপের পথ খোলা রাখলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সামরিক প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

তার এই মন্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। ট্রাম্প ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের জেরে “কঠোর বিকল্প” বিবেচনার কথা বলেন, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে; তবে পরিস্থিতির অবনতির কারণে আগে পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক বিকল্প “পরীক্ষা” করতে চায়, ইরানও তার জবাব দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন “বুদ্ধিমানের পথ” হিসেবে সংলাপকেই বেছে নেবে। তার দাবি, কিছু পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে চায়, যাতে তা ইসরায়েলের স্বার্থে কাজে লাগে।

দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের বিষয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের ভেতরে “সন্ত্রাসী উপাদান” ঢুকে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংসতায় শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী পক্ষের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং তাদের মধ্যে বহু বিক্ষোভকারী রয়েছেন। স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইন্টারনেট সেবা কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ধীরে ধীরে চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন আরাঘচি। এদিকে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশটি প্রায় চার দিন অনলাইনের বাইরে ছিল।

আরাঘচি আরও জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-এর সঙ্গে তার যোগাযোগ বিক্ষোভের আগে ও পরে অব্যাহত রয়েছে। আলোচনায় ওঠা বিভিন্ন প্রস্তাব তেহরানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হুমকি বা চাপের মধ্যে” ইরান পারমাণবিক আলোচনায় বসবে না।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে তাদের সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েল “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হয়ে উঠবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট অভিযোগ করেন, ইরান প্রকাশ্যে এক ধরনের বার্তা দিলেও ব্যক্তিগত যোগাযোগে ভিন্ন সুরে কথা বলছে। একই সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইরানের প্রস্তাবিত সামরিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বিক্ষোভ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে উভয় দেশের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এখন দৃষ্টি রয়েছে—সংলাপের পথ কতটা কার্যকর হয়, নাকি উত্তেজনা নতুন করে সংঘাতে রূপ নেয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন