Saturday, February 28, 2026

হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা: জিরো টলারেন্সের ঘোষণা পানিসম্পদমন্ত্রীর


ছবিঃ সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। আজ শুক্রবার দুপুরে জেলার চন্দ্রসোনার থাল হাওরে (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবে এবং এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

শুক্রবার সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে চলমান বাঁধ নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দিনভর তিনি জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার একাধিক হাওর পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নির্ধারিত নীতিমালা মেনে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান রক্ষায় টেকসই ও মানসম্মত বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে হাওর এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং তাঁর নির্দেশেই মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সতর্কভাবে কাজ তদারকি করা হচ্ছে। কোনো গাফিলতি বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদী ও খাল খনন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে খাল-নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় জনগণকে নজরদারিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ৭১০টি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়সীমা ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অধিকাংশ স্থানে মাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ৭৮ শতাংশ।

তবে স্থানীয় কৃষক ও হাওর রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি সরকারি হিসাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁদের দাবি, অনেক স্থানে এখনো কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, যা আগাম বন্যা বা পাহাড়ি ঢলে ফসলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ভয়াবহ ফসলহানির পর হাওরে বাঁধ নির্মাণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের সম্পৃক্ত করে কাজ পরিচালনার ব্যবস্থা চালু করা হয়। প্রতিটি পিআইসি নির্দিষ্ট অর্থসীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে।

কৃষকেরা আশা করছেন, সময়মতো ও মানসম্মতভাবে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হলে এবারের বোরো মৌসুমে ফসল সুরক্ষিত থাকবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন