- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ অঞ্চলের ব্লাত ও ওয়াদি বারঘুতি এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই হামলাগুলো ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এতে বেসামরিক এলাকা ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান তুফাহ অঞ্চলের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বোমা বর্ষণ করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ-সমর্থিত আল-মানার টিভি দাবি করেছে, মারকাবা শহরে ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বেশিরভাগ হামলা বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের টহল অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার লেবাননের বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত একজন নিহত ও ২৯ জন আহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সী এক সিরীয় কিশোর। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বালবেকের কাছে কফর দান এলাকায় হামলায় সে প্রাণ হারায়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া সংঘাত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয়। পরে নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এরপরও ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক।
লেবানন সরকার জানিয়েছে, লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপ শেষ করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। তবে হিজবুল্লাহ বলছে, নিরস্ত্রীকরণের শর্ত কেবল নির্দিষ্ট এলাকার জন্য প্রযোজ্য এবং ইসরায়েলি হামলা ও দখলদারিত্ব চলতে থাকলে তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সংঘাতে গড়াতে পারে।