Friday, July 17, 2026

উৎক্ষেপণের মুহূর্তেই থেমে গেল স্পেসএক্সের স্টারশিপ, ইঞ্জিন ত্রুটিতে বাতিল হলো মিশন


ছবিঃ রকেট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বহুল প্রত্যাশিত স্টারশিপ রকেটের আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে স্পেসএক্স। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে কোম্পানির উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে রকেটটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও ইঞ্জিনে ত্রুটি ধরা পড়ায় স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা উৎক্ষেপণ স্থগিত করে।

ঘটনার পর স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, রকেটের কয়েকটি ইঞ্জিন নির্ধারিত সময়ে চালু না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমস্যাগ্রস্ত দুটি ইঞ্জিন পরিবর্তন করা হবে এবং আগামী সপ্তাহের আগে নতুন করে উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে না।

এই মিশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্টারশিপের তৃতীয় প্রজন্মের স্টারলিংক উপগ্রহ পরীক্ষামূলকভাবে মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। যদিও এগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি কক্ষপথে রাখার পরিকল্পনা ছিল না। বরং উৎক্ষেপণের প্রায় ২০ মিনিট পরই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কারণ, স্টারশিপ এখনো সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থায়ীভাবে পৌঁছানোর সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেনি।

এটি ছিল জুন মাসে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর স্পেসএক্সের প্রথম স্টারশিপ উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টা। ওই আইপিও থেকে প্রতিষ্ঠানটি ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন সংগ্রহ করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির শেয়ারের দর ধারাবাহিকভাবে কমছে। বৃহস্পতিবার নিয়মিত লেনদেন শেষে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম আইপিওর মূল্য ১৩৫ ডলারের নিচে নেমে আসে। উৎক্ষেপণ বাতিলের খবর প্রকাশের পর পরবর্তী লেনদেনেও শেয়ারের দাম আরও ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়।

এর আগে মে মাসে স্টারশিপ ভি-৩-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন আংশিক সফল হয়েছিল। তখন রকেটটি উৎক্ষেপণে সফল হলেও সুপার হেভি বুস্টার নির্ধারিত নিয়ন্ত্রিত অবতরণের আগেই ত্রুটির মুখে পড়ে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) তদন্ত শুরু করে। পর্যালোচনা শেষে কয়েকটি কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করে সংস্থাটি সম্প্রতি আবারও স্টারশিপের উড্ডয়নের অনুমতি দেয়।

মে মাসের সেই পরীক্ষায় স্টারশিপের ওপরের ধাপেও একটি ইঞ্জিন বিকল হয়েছিল। তবুও রকেটের উপরের অংশ নির্ধারিত পরীক্ষামূলক অবতরণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়।

বৃহস্পতিবারের উৎক্ষেপণে কাউন্টডাউন প্রায় শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর আবারও কাউন্টডাউন শুরু হয়। উৎক্ষেপণের মুহূর্তে লঞ্চপ্যাডের ওয়াটার ডেলিউজ সিস্টেম সক্রিয় হয় এবং রকেটের বুস্টার ইঞ্জিন জ্বলে উঠতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। স্পেসএক্সের সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, নতুন প্রজন্মের চারটি র‌্যাপটর ইঞ্জিন নির্ধারিতভাবে চালু হয়নি।

এখন রকেটের বুস্টার ও ওপরের ধাপে থাকা সব জ্বালানি নিরাপদে অপসারণ করে প্রকৌশলীরা ত্রুটির কারণ খুঁজে বের করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় মেরামত ও পরীক্ষা শেষে পরবর্তী উৎক্ষেপণের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

স্টারশিপ ও নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক উপগ্রহকে কেন্দ্র করে স্পেসএক্স ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি স্টারলিংক বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে লাভজনক এবং প্রধান আয়ের উৎস হওয়ায় এই প্রকল্পের সফলতা স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন