Friday, July 17, 2026

খেলাপি ঋণ কমাতে ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্যও ‘এককালীন এক্সিট’ সুবিধা চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (ফাইন্যান্স কোম্পানি) খেলাপি ঋণ কমানো এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অর্থ দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট শ্রেণির ঋণগ্রহীতারা এককালীন মূল ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ হিসাব বন্ধ করার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বকেয়া সুদের আংশিক বা সম্পূর্ণ অংশ মওকুফ করা যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ঋণের মূল অর্থ বা আসল টাকা মওকুফ করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (এফসিআরপিডি) ‘অনাদায়ী ঋণ আদায় বা সমন্বয়ে বিশেষ এক্সিট-সংক্রান্ত নীতিমালা’ শীর্ষক একটি সার্কুলার জারি করে এ নির্দেশনা দেয়।

এর আগে একই ধরনের সুবিধা দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে চালু করা হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগের পরিধি বাড়িয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কার্যকর করা হলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা নানা কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যবসায় লোকসানের কারণে সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় তাদের অনেক ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এমন গ্রাহকদের জন্য ঋণ নিষ্পত্তির একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করতেই এই বিশেষ এককালীন এক্সিট সুবিধা চালু করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সুবিধা নিতে আগ্রহী গ্রাহককে একবারেই পুরো মূল ঋণ পরিশোধ করে ঋণ হিসাব বন্ধ করতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বকেয়া সুদের আংশিক বা সম্পূর্ণ অংশ মওকুফ করতে পারবে। তবে মূল ঋণের কোনো অংশ ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুদ মওকুফ করতে চায়, তাহলে সে সিদ্ধান্তের আগে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা (ইন্টারনাল অডিট) এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ (ইন্টারনাল কন্ট্রোল) বিভাগের মতামত ও অনুমোদন নিতে হবে। এর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। যেসব ব্যক্তি ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, অর্থ পাচারে জড়িত কিংবা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ করেছেন, তারা এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে যেসব ‘মন্দ ঋণ’ পুনঃতপশিল করা হয়েছে, সেই ঋণগ্রহীতারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই এককালীন এক্সিট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ আদায় সহজ হবে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং অর্থের প্রবাহ আবারও অর্থনীতিতে ফিরে আসতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন