- ১৫ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আজ বুধবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে সুপারিশ অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হবে।
যদি আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হয়, তবে পরবর্তী বৈঠকে সুপারিশ অনুমোদন করে মন্ত্রিসভার কাছে পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে বেতন কমিশনের সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামো সমন্বয়ের কারণে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। তবুও সরকারের লক্ষ্য, চলতি জুলাই মাস থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা।
অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকবে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণেরও প্রস্তাব রয়েছে। খসড়ায় চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা এবং সন্তানদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। কারণ, নতুন কাঠামোয় মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন সচিব কমিটির এই বৈঠকের দিকে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ এবং লাখো সরকারি কর্মচারীর নতুন বেতন কাঠামোর ভবিষ্যৎ।