- ১২ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাবনা যাচাই এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় পৌঁছেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সফরের শুরুতেই বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবে সংস্থাটির মিশন।
আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদল রোববার থেকে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করছে। সফরের অংশ হিসেবে আগামীকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, নতুন কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন বছরে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেতে পারে। এই অর্থ বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঋণ কর্মসূচির আবেদন জানানো হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারের আলোচনায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সূচকই পর্যালোচনায় আসবে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে সদ্য ঘোষিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট, রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি, কর ছাড়ের যৌক্তিকতা, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার সংস্কার এবং আর্থিক খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো।
ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা এবং সংস্কার পরিকল্পনাও আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, জনবল কাঠামো, নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতার কারণে সরকারের আর্থিক দায় কতটা বাড়ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য চাইতে পারে আইএমএফ।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতও থাকবে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়, প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি, পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করবে সংস্থাটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত, অগ্রাধিকার এবং সংস্কার-সংক্রান্ত প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সরকারও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নীতিগত উদ্যোগগুলো আইএমএফের সামনে তুলে ধরবে।
সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধিদল তাদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ওয়াশিংটনে সদর দপ্তরে জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন ঋণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের মিশন ঢাকা সফরে আসতে পারে।