Sunday, July 12, 2026

টানা বৃষ্টি-বন্যায় চট্টগ্রামে মাছচাষে বিপর্যয়, প্রাথমিক ক্ষতি ৯১ কোটি টাকা


ছবিঃ চট্টগ্রামে বন্যায় মৎস্যখাতে ক্ষতি ৯১ কোটি টাকা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম

টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাছচাষে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজার হাজার পুকুর, দিঘী ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ ও পোনা। এতে জেলার অসংখ্য মৎস্যচাষী আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকের বছরের একমাত্র বিনিয়োগ এক নিমিষেই পানিতে হারিয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের শনিবার (১১ জুলাই) প্রকাশিত প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর, দিঘী ও জলাশয় প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে ৩২০টি মাছের ঘের। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার ১১১ হেক্টর জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। এর পরেই রয়েছে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া। এই তিন উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি জলাশয় প্লাবিত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাছ পানির স্রোতে ভেসে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জেলার সবকটি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেই পুকুর, জলাশয় ও মৎস্যঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক জরিপে প্রায় ৯১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকায় ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়গুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ১২৩ টন বড় মাছ এবং প্রায় ৫৭০ টন চিংড়ি ভেসে গেছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০ লাখ মাছের পোনা নষ্ট বা ভেসে যাওয়ায় আগামী মৌসুমের উৎপাদনও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বাঁশখালীতে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। সাতকানিয়ায় প্রায় ১১ কোটি টাকা, লোহাগাড়ায় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা এবং কর্ণফুলী ও চন্দনাইশে প্রায় ৬ কোটি টাকা করে ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। এছাড়া পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি, আনোয়ারায় ১ হাজার ১০০টি, কর্ণফুলীতে ৫৫৭টি এবং চন্দনাইশে ৩৮৩টি জলাশয় প্লাবিত হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কেবল মাছ ভেসে যাওয়ার কারণে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাছের পোনা নষ্ট হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা। এছাড়া জলাশয় ও মৎস্য অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীরা বলছেন, অনেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সব মাছ ভেসে যাওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন এবং সহজ শর্তে ঋণ না পেলে অনেকের পক্ষে নতুন করে মাছচাষ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন