- ১২ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
কাতারের সাবেক আমির ও দেশটির আধুনিক উন্নয়নের অন্যতম স্থপতি শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রোববার (১২ জুলাই) দেশটির আমিরি দিওয়ান এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস রেখে আমিরি দিওয়ান জাতির জন্য এক মহান ক্ষতির সংবাদ জানাচ্ছে। সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন।”
তার মৃত্যুতে কাতারে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ শোক চলাকালে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি দেশটির জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
শেখ হামাদ ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলেই ছোট উপসাগরীয় দেশটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।
তার নেতৃত্বে কাতার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হয়। বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ, কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক নানা উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটির অবস্থান শক্তিশালী হয়।
শেখ হামাদের আমলেই ১৯৯৬ সালে চালু হয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, যা পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যমে পরিণত হয়। এছাড়া ২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন এবং পৌর নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নেওয়া হয় তার শাসনামলে।
২০১৩ সালে আকস্মিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে নেতৃত্ব তুলে দেন শেখ হামাদ। সে সময় শেখ তামিমের বয়স ছিল ৩৩ বছর। উপসাগরীয় রাজপরিবারগুলোর মধ্যে এটি ছিল বিরল এক স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল এতাইবি বলেন, শেখ হামাদ কাতারকে একটি সাধারণ দেশ থেকে বৈশ্বিকভাবে প্রভাবশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
শেখ হামাদের মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অনেক বিশ্বনেতা কাতারের রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির নেতৃত্বে কাতার শুধু অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, কূটনীতি ও বৈশ্বিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। তার দীর্ঘ শাসনকাল দেশটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।