- ১১ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হয়ে যাওয়ায় পুরো দ্বীপ রাষ্ট্র অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে দৈনন্দিন জীবন, পরিবহন এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা দে কিউবা জানায়, বিকেলে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
চলতি বছরের শুরু থেকে এটি কিউবার চতুর্থ দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়। এর আগে মার্চ মাসে দুইবার এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে সোমবারও একই ধরনের বড় ধরনের ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ পুরোনো অবকাঠামো এবং জ্বালানি ঘাটতি। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর সক্ষমতা কমে এসেছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবার জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর দেশটির জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিউবা নিজস্বভাবে প্রয়োজনীয় তেলের মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারে। বাকি জ্বালানির জন্য দেশটিকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতি ও জনজীবনে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের কারণে হাসপাতাল, গণপরিবহন এবং অন্যান্য জরুরি সেবায় চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ দেশটির দীর্ঘদিনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যা। তবে হাভানা বরাবরই ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি অবরোধকে বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
সংকট মোকাবিলায় কিউবা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। চীনের সহায়তায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের তুলনায় নবায়নযোগ্য উৎসের অবদান এখনও সীমিত। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নিশ্চিত করা।
তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।