- ১৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন শিল্প গড়ে তুলতে নীতিগত সহায়তা জোরদার করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশকে সামনে রেখে লিথিয়াম ব্যাটারি ও ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল কম শুল্কে আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সরকারি এ উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় শিল্প বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, উদ্যোক্তাদের অভিযোগ নীতিগত সুবিধা বাস্তবে পেতে গিয়ে তারা প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পরও কাস্টমস প্রসিডিউর কোড (সিপিসি) পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে বন্দরে কাঁচামাল আটকে থাকায় ডেমারেজ, গুদাম ভাড়া এবং ব্যাংক সুদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
চলতি বছরের ৮ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন প্রজ্ঞাপনের আওতায় লিথিয়াম-আয়ন, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে ব্যবহৃত নির্ধারিত কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ কম শুল্কে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত ও অনুমোদিত উৎপাদনকারী হতে হবে। এরপর এনবিআরের কাছ থেকে সিপিসি বরাদ্দ পেলেই শুল্ক সুবিধা কার্যকর হবে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের ইতিবাচক নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশিত না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে বিলম্বের মুখে পড়ছে। এতে বিনিয়োগের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহও কমে যেতে পারে।
একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রেজাউল হক বলেন, সরকার শিল্প বিকাশে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন থাকার পরও যদি সিপিসি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে বিনিয়োগের খরচ বেড়ে যায় এবং উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এদিকে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণভাবে জমা দিতে দেরি করেন। সব নথি যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম মেনেই সিপিসি ইস্যু করা হয়। তাই প্রক্রিয়াটি শেষ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাছান মাহমুদ টুকু বলেন, সম্ভাবনাময় এই শিল্প খাতের জন্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সহায়তা দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে আবেদন নিষ্পত্তির গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। তাহলেই নীতিগত প্রণোদনা দ্রুত বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নেবে এবং স্থানীয় শিল্পের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অর্থনীতি ও শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে বাংলাদেশও লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।