Saturday, July 18, 2026

বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, বেড়েছে মুরগির মূল্যও


ছবিঃ চড়া শাকসবজির বাজার, বাড়ল ফার্মের মুরগির দাম (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাতে প্রায় সব ধরনের শাক-সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার, সোনালিসহ বিভিন্ন জাতের মুরগি। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তালতলা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। সেই প্রভাবেই দাম বেড়েছে অধিকাংশ কৃষিপণ্যের।

বাজারে বর্তমানে করলা, ঢেঁড়স ও পটল প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুরমুখী বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং বরবটি ও কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। বেগুনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে।

এ ছাড়া চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সজনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং মুলা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফুলকপি প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় উঠেছে। ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি দেশি শসা ১২০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ৩০ টাকায়।

শাকের বাজারেও একই চিত্র। লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং কলমি ও ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মুরগি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি কক ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩১০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, আলুর দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে থাকলেও দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়ে কেজিতে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। ছোট আকারের ইলিশ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতল, বোয়াল, চিংড়ি, পাবদা, টেংরাসহ অধিকাংশ মাছের দামও আগের তুলনায় উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।

ডিমের বাজারেও স্থিতিশীলতা ফেরেনি। এক ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতার অভিযোগ, প্রতিটি সপ্তাহেই নতুন করে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবহাওয়ার উন্নতি হলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং তখন বাজারে দামের চাপও কিছুটা কমতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন