- ১৭ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে এই ফাইনাল শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লেখার মঞ্চ। ম্যাচটিতে মাঠে নামলেই একাধিক বিরল রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা।
৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নামবেন মেসি। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে তিনিই হবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড ফুটবলার। আর সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফাইনাল খেলার রেকর্ডটি এখনো ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফের দখলে রয়েছে।
এবারের ফাইনাল হবে মেসির ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলে তার আগে কেবল ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুই অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন।
যদি স্পেনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারে, তাহলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য নজির গড়বেন মেসি। একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ইতালির পর টানা দুই আসরে বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দেশ হবে আর্জেন্টিনা।
এই ম্যাচে ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে মেসিকে। ফাইনালে একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা আউটফিল্ড ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন তিনি। বর্তমানে এই কীর্তির মালিক সুইডেনের নিলস লিডহোম।
আর একটি গোল করলেই ১৯৩০ সালে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ আট গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবেন মেসি। দুটি গোল করতে পারলে এক আসরে তার গোলসংখ্যা হবে ১০, যা ইউরোপের বাইরের কোনো ফুটবলারের জন্য হবে প্রথম এমন অর্জন। এর আগে এক বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলের কীর্তি গড়েছেন কেবল জুস্ত ফঁতেন, সান্দর কচিস এবং গার্ড মুলার।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। এবারও গোল করতে পারলে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করবেন।
এদিকে দুটি গোল করতে পারলে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বাধিক চার গোলের রেকর্ডে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশে জায়গা করে নেবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর হ্যাটট্রিক করতে পারলে সেই রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেবেন।
শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ভাঙার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। বর্তমানে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর করা আট গোল এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে পারলে সেই রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়ে নিতে পারবেন তিনি।
সব মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালটি আর্জেন্টিনার জন্য শিরোপা ধরে রাখার লড়াই হলেও, লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে ক্যারিয়ারের আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায়। এক ম্যাচেই তিনি ছুঁতে পারেন এমন সব মাইলফলক, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে তাকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।