- ১৬ জুলাই, ২০২৬
PNN স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নাটকীয় জয়ের পর মাঠে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এতে ফিফার শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বুধবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড়ের হাতে দেখা যায় "Las Malvinas son Argentinas" লেখা একটি ব্যানার। বাংলায় যার অর্থ— "মালভিনাস (ফকল্যান্ড) আর্জেন্টিনার।"
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যাকে আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে ডাকা হয়, বহু দশক ধরেই যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এর মালিকানা দাবি করে আসছে।
১৯৮২ সালে এই দ্বীপকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে প্রাণ হারান ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য। নিহত হন দ্বীপের তিনজন বাসিন্দাও। প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি এখনও দুই দেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই ম্যাচ-পরবর্তী এই উদযাপনকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমন ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। সে সময়ও সংস্থাটি রাজনৈতিক বার্তা বহনকারী কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
সেমিফাইনালের পর বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, "এটি শুধু আরেকটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। মালভিনাস আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে ব্যানার নিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা ভুলে গেছে—মালভিনাস আমাদের রক্তে, আমাদের হৃদয়ে।" পোস্টের সঙ্গে তিনি আর্জেন্টাইন সেনাদের একটি ভিডিওও শেয়ার করেন।
এর আগে ম্যাচের আগেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই লড়াই ছিল "দখলদারদের তাদের জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার" সুযোগ।
অন্যদিকে, পুরো বিষয়টি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেমিফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, আমি রাজনীতি আর ফুটবলকে এক করতে চাই না। ইতিহাসের সেই সময়টা আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক ছিল। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। কিন্তু মাঠের লড়াইটা শুধুই ফুটবলের হওয়া উচিত।"
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচটি এমনিতেই দুই দেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছিল। সেই কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল অন্য ম্যাচগুলোর তুলনায় অনেক বেশি কঠোর।
এদিকে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি। তবে অতীতের নজির বিবেচনায় বিষয়টি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে তাই মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই বিতর্কও এখন আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।