- ১৭ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বকাপের শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও টুর্নামেন্ট শেষ করার আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অপেক্ষা করছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সামনে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের এই দুই ফুটবল পরাশক্তি। মর্যাদার লড়াইয়ের পাশাপাশি ম্যাচটি ঘিরে রয়েছে আবেগ, ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত অর্জনেরও একাধিক গল্প।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারায় বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। অন্যদিকে, আরেক সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। ফলে এবার তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে দুই দলকে।
ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের সফল কোচ দিদিয়ের দেশমের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ। তার নেতৃত্বেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০২২ সালে দলকে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি টানা তিনটি বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়ে অনন্য এক কীর্তিও গড়েন এই অভিজ্ঞ কোচ।
তাই শেষ ম্যাচে জয় উপহার দিয়ে দেশমকে স্মরণীয় বিদায় জানাতে মরিয়া থাকবে ফরাসি ফুটবলাররা।
অন্যদিকে, ম্যাচটি কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্যও হতে পারে ব্যক্তিগত সাফল্যের মঞ্চ। বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ রয়েছে এই ফরাসি তারকার সামনে।
বর্তমানে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সমান আট গোল করেছেন এমবাপ্পে। তবে গোলসংখ্যা সমান হলেও অ্যাসিস্টের হিসেবে এগিয়ে আছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের চারটি অ্যাসিস্টের বিপরীতে এমবাপ্পের রয়েছে তিনটি। এই পরিসংখ্যানের কারণে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন মেসি।
ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল কিংবা একটি অ্যাসিস্ট করতে পারলেই এমবাপ্পে ব্যক্তিগত এই লড়াইয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সব মিলিয়ে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়। ফ্রান্সের জন্য এটি একজন সফল কোচকে সম্মানজনক বিদায় জানানোর উপলক্ষ, আর এমবাপ্পের জন্য ব্যক্তিগত ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডও টুর্নামেন্ট শেষ করতে চাইবে একটি জয় দিয়ে। তাই মর্যাদার এই লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যেই দেখা যেতে পারে সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতা।