- ১৭ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সময় পেরিয়েছে দেড় দশক, কিন্তু দর্শকের মনে ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র আবেদন এতটুকুও কমেনি। বন্ধুত্ব, আত্ম-অন্বেষণ এবং জীবনকে নতুন করে উপভোগ করার বার্তা নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি আজও বলিউডের অন্যতম প্রিয় সিনেমার তালিকায় জায়গা করে আছে। মুক্তির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছবির স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তুলে ধরেছেন এর অন্যতম প্রধান অভিনেতা হৃতিক রোশন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে হৃতিক জানান, ‘অর্জুন’ চরিত্রটি তার অভিনয়জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। শুধু একটি চরিত্রে অভিনয় নয়, বরং নিজের বাস্তব জীবনের কিছু অনুভূতি ও মানসিক দ্বন্দ্বকে পর্দায় প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি এই সিনেমার মাধ্যমে।
পোস্টের সঙ্গে ছবির শুটিংয়ের বেশ কয়েকটি স্থিরচিত্রও প্রকাশ করেন অভিনেতা। সেখানে তিনি পরিচালক জোয়া আখতারের প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে কাজের পরিবেশ ছিল একেবারেই ভিন্ন। পুরো ইউনিট স্বাধীনভাবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, আর সেই আন্তরিকতা ও আনন্দই শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রটিকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
হৃতিকের ভাষ্য, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি ছিল আত্ম-অন্বেষণের এক যাত্রা। ‘অর্জুন’ চরিত্রের মতো তিনিও কাজ করতে গিয়ে নিজের ভেতরের অনেক নতুন দিক আবিষ্কার করেছিলেন। এ কারণেই ছবিটি তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রয়েছে।
স্মৃতিচারণার শেষে সহশিল্পী অভয় দেওল, ফারহান আখতার, ক্যাটরিনা কাইফ, কালকি কোয়েচলিন, পরিচালক জোয়া আখতার এবং পুরো নির্মাণসংশ্লিষ্ট দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ১৫ বছর পরও দর্শকদের ভালোবাসায় ছবিটি যে সমানভাবে বেঁচে আছে, সে জন্য ভক্তদেরও ধন্যবাদ জানান এই তারকা।
২০১১ সালের ১৬ জুলাই মুক্তি পাওয়া ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ বন্ধুত্ব, সাহস, ভালোবাসা এবং জীবনের অজানা সম্ভাবনাকে আবিষ্কারের গল্প নিয়ে নির্মিত। একদল বন্ধুর ব্যাচেলর রোড ট্রিপকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলা গল্পটি ধীরে ধীরে জীবনের গভীর উপলব্ধিতে রূপ নেয়, যা বিশ্বের নানা প্রান্তের দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
জোয়া আখতার পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শক—উভয় মহলের প্রশংসা অর্জন করে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় ছবিটি। প্রায় ৬০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই সিনেমা বিশ্বব্যাপী ১৫৩ কোটিরও বেশি রুপি আয় করে বক্স অফিসেও বড় সাফল্য পায়।
১৫ বছর পরও ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ শুধু একটি সফল সিনেমা হিসেবেই নয়, বরং জীবনকে নতুনভাবে দেখার অনুপ্রেরণা হিসেবে দর্শকদের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছে।