- ১৫ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। দীর্ঘদিনের বন্ধু গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মহলে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এ বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে সমালোচনা করেন। এরই মধ্যে এক ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে আপত্তিও জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা বরাবরই ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসেনি।
তিনি জানান, তার দুই বোন হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন, মেয়েও একজন হিন্দু যুবককে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া তার এক চাচাতো ভাই একজন খ্রিষ্টান নারীকে বিয়ে করেছেন। এসব সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মান্তরের প্রসঙ্গে আমির বলেন, তার সাবেক স্ত্রী রীনা দত্ত, সাবেক স্ত্রী কিরণ রাও কিংবা বর্তমান স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট—কেউই বিয়ের কারণে নিজেদের ধর্ম পরিবর্তন করেননি। কারণ, তাদের সব বিয়েই আইনগতভাবে সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গৌরী নিজে খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি নিয়মিত ধর্মীয় অনুশীলন করেন না। ব্যক্তিগত বিশ্বাসকে সম্মান করেই তারা সংসার শুরু করেছেন।
এর আগে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে মুসলিম পারসোনাল দারুল ইফতার শাহির প্রধান মুফতি মাওলানা ইব্রাহিম হুসাইন আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলিম পুরুষ অমুসলিম নারীকে বিয়ে করতে পারেন না, যদি না ওই নারী ইসলাম গ্রহণ করেন। এই বক্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে একান্ত পারিবারিক আয়োজনে ৪৭ বছর বয়সী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন ৬১ বছর বয়সী আমির খান। অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের নির্বাচিত অতিথিসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে প্রথম পরিচয় হলেও দুই বছরের কিছু বেশি সময় আগে আবারও একে অপরের কাছাকাছি আসেন আমির ও গৌরী। এরপর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পরিণতি পায় বৈবাহিক সম্পর্কে।
এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। এর আগে ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। ২০০২ সালে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করলেও ২০২১ সালে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিচ্ছেদ হয়।
বিতর্কের মধ্যেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান বজায় রেখে আমির খান বলেছেন, পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও স্বাধীনতাই একটি সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ধর্ম নয়, মানুষই সম্পর্কের মূল শক্তি—এমন বার্তাই তিনি তুলে ধরেছেন।