Sunday, July 12, 2026

স্বল্প বাজেটের বড় চমক ‘অবসেশন’ এখন বছরের অন্যতম সফল ইন্ডি চলচ্চিত্র


ছবিঃ ‘অবসেশন’–এ ইন্দে নাভারেটে ও মাইকেল জনস্টন (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

একতরফা প্রেম, একটি রহস্যময় ইচ্ছাপূরণের বস্তু এবং সেই ইচ্ছার ভয়াবহ মূল্য—এই তিন উপাদানকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে চলতি বছরের আলোচিত হরর চলচ্চিত্র ‘অবসেশন’। স্বল্প বাজেটে নির্মিত ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। মাত্র ১ মিলিয়ন ডলারের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৩৭৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করে বছরের অন্যতম সফল স্বাধীন (ইন্ডি) চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।

পরিচালক ক্যারি বার্কারের নির্মাণে ‘অবসেশন’ শুধু ভয় দেখানোর চেষ্টা করেনি; বরং প্রেম, আসক্তি এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন আকাঙ্ক্ষার অন্ধকার দিককে হরর ঘরানার মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা, ডার্ক হিউমার এবং রক্তাক্ত সহিংসতার মিশেলে ছবিটি দর্শকদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বিয়ার নামের এক অন্তর্মুখী তরুণ, যে একটি বাদ্যযন্ত্রের দোকানে কাজ করে। সহকর্মী নিকির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থাকলেও কখনো তা প্রকাশ করার সাহস পায় না। একদিন কাকতালীয়ভাবে সে একটি রহস্যময় বস্তু হাতে পায়, যার মাধ্যমে একটি মাত্র ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব। আবেগের বশে সে এমন একটি ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা মুহূর্তেই তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।

শুরুতে সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হলেও খুব দ্রুত সেই ইচ্ছাই ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ভালোবাসা ধীরে ধীরে রূপ নেয় নিয়ন্ত্রণহীন আসক্তিতে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় একের পর এক অস্বস্তিকর ও ভয়াবহ ঘটনা।

ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি অভিনয়। বিয়ার চরিত্রে মাইকেল জনস্টন সংযত অভিনয় করলেও পুরো চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন ইন্দে নাভারেটে। নিকি চরিত্রে তার অভিনয় একই সঙ্গে ভয়, করুণা এবং মানসিক অস্থিরতার অনুভূতি তৈরি করে। চরিত্রটির আবেগগত পরিবর্তন তিনি এমন দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন, যা ছবির অন্যতম আকর্ষণ।

পরিচালক ক্যারি বার্কার ইউটিউবভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও এই সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় নিজের নির্মাণশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রচলিত জাম্প স্কেয়ারের ওপর নির্ভর না করে তিনি ধীরে ধীরে উত্তেজনা তৈরি করেছেন। নিখুঁত সম্পাদনা, অস্বস্তিকর নীরবতা এবং আবহসংগীতের ব্যবহারে ছবিটি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করে।

তবে ছবিটি শুধুই প্রশংসায় সীমাবদ্ধ নয়। কয়েকজন সমালোচকের মতে, নারী চরিত্র নিকির মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি আরও গভীরভাবে তুলে ধরা যেত। এছাড়া প্রায় দুই ঘণ্টার দৈর্ঘ্যের কারণে কিছু অংশে গল্পের গতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে।

তবুও সব মিলিয়ে ‘অবসেশন’ প্রমাণ করেছে, বড় বাজেট নয়—সৃজনশীল গল্প, দক্ষ নির্মাণ এবং শক্তিশালী অভিনয়ই একটি সিনেমাকে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এনে দিতে পারে। যারা মনস্তাত্ত্বিক হরর, ডার্ক থ্রিলার এবং অপ্রত্যাশিত মোড়ের গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘অবসেশন’ হতে পারে বছরের অন্যতম স্মরণীয় চলচ্চিত্র।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন